আজ শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমের ওপর আম্পানের থাবা

খুলনা মেইল ডেস্ক : সামনেই আমের রসের রাজকীয় মৌসুম। সেটি যেন অনেকটায় ফিকে করে দিলো ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। সুপার সাইক্লোনের খ্যাতি পাওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য আমগাছ উপড়ে গেছে। ঝড়ে পড়েছে আম। নষ্ট হয়েছে প্রচুর পরিমাণ আম।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আম বাগানগুলো ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে মৌসুমের আগেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এসকল অঞ্চলের আম চাষীদের। এজন্য সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন উদ্বিগ্ন আমচাষী।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে আমের। বাগানগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ আম গাছ থেকে পড়ে গেছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার রাত ১২টার পর থেকে জেলার চারঘাট, পুঠিয়া ও বাগমারা উপজেলার উপর দিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব তালিয়ে যায় আম্পান। এতে করে এসব এলাকার সিংহভাগ আম গাছ থেকে পড়ে যায়।

বেশকিছু এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ে। মাঠের পাকা ধান নষ্ট হয়েছে। নিচু জমির ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে।

তবে রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকায় অবস্থিত আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। রাত ২টা ৫৫ থেকে ২টা ৫৮ মিনিটে ৫৯ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, জেলার আমের ২০ শতাংশ গাছ থেকে পড়ে গেছে। তবে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। অন্যান্য ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলিমুদ্দিন জানিয়েছে, আম প্রক্রিয়াজাত করে আচার কিংবা জেলির মতো খাবার তৈরি করে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে।

আম্পানের প্রভাব পড়েছে আমের জন্য বিখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও। সেখানকার কয়েকজন আমচাষী বলেন, এমনিতেই চলতি মৌসুমে আমের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় ছিলাম আমরা। যা আম এসেছে তাতে খরচ উঠা কষ্ঠসাধ্য হয়ে পড়বে। তারওপর আম্পানের কারণে ক্ষতির শঙ্কা আরও বেড়ে গেলো।

একই শঙ্কায় সাতক্ষীরার আমচাষীরাও। ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকূলীয় এ জেলাটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলাটিতে চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি আম বাগানে আম চাষ হচ্ছে। ১৩ হাজারের বেশি চাষী আম উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে জেলাটিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার মেট্রিক টন।

এসব আমের মধ্যে আগামী ৩১ মে থেকে হিমসাগর, ৭ জুন ল্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আম্রপালি আম বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি চলছিল। এরমধ্যে ‘আম্পান’ এসে হিসেব এলোমেলো করে দিয়েছে। আমচাষীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সংশ্লিষ্ঠ আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২৪৯,৫৯৮
সুস্থ
১৪৩,৮২৬
মৃত্যু
৩,৩০৬
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৯৭৭
সুস্থ
২,০৭৪
মৃত্যু
৩৯
স্পন্সর: একতা হোস্ট