আজ শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনার হট স্পট হয়ে উঠছে খুলনা মহানগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনার হট স্পট হয়ে উঠছে খুলনা মহানগরী। এখন আর বহিরাগত বা তাদের সংস্পর্শে আসা রোগীরাই করোনা আক্রান্ত হচ্ছে না। শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে এ ভাইরাস। কোভিড চিকিৎসার জন্য একমাত্র হাসপাতালেও জায়গা শেষ পর্যায়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই মুহূর্তে কোন নির্দিষ্ট বাড়ি বা এলাকা নয় পুরো খুলনা কঠোরভাবে লকডাউন দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী। অপরদিকে বৃহস্পতিবার খুমেক হাসপাতাল থেকে ৫ জন রোগি কর্তৃপক্ষকে না বলে চলে যান। যার মধ্যে ৩ জনেরই করোনা পজেটিভ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) পিসিআর ল্যাব ও খুলনা সিভিল সার্জনের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরীর মধ্যে রয়েছে ৯১ জন, দিঘলিয়ায় ২৪, রূপসায় ১৪, ডুমুরিয়ায় ৭, দাকোপে ৬, বটিয়াঘাটা ৩, তেরখাদায় ৩, ফুলতলায় ২, পাইকগাছায় ২ ও কয়রায় ১। আক্রান্তদের মধ্যে ১০৭ জন পুরুষ, ৩৬ জন নারী এবং ১০ জন শিশু রয়েছে।

এদিকে খুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। যার মধ্যে রূপসায় ৩ ও দিঘলিয়ায় ১ জন। আর সুস্থ্য হয়েছেন ৩৪ জন।

বৃহস্পতিবারে  একদিনে খুলনা জেলার ৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে খুমেক ল্যাবে ৩০ জন এবং অন্য ল্যাবে একজন আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৯জন, পাইকগাছার ১ জন ও রুপসার ১ জন রয়েছেন।

খুমেকের উপাধ্যাক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, বৃহস্পতিবারে খুমেকের পিসিআর ল্যাবে মোট ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর মধ্যে খুলনার নমুনা ছিল ১৪১টি। নমুনা পরীক্ষার পর ৩৫টি পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। যার মধ্যে খুলনার ৩০, যশোরের ৪ ও ঢাকার ১টি।

নগরীতে আক্রান্তের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক, দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী, কেএমপি’র একজন নারী ও একজন পুরুষ সদস্য এবং জেলা পুলিশের এক সদস্য ও দু’জন শিশু রয়েছে।

খুলনার করোনা আক্রান্ত রোগীদের ঠিকানা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এখন আর কোন নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চল থেকে আসা বা তাদের সংস্পর্শে আসা লোকই আক্রান্ত নয়, মহানগরীসহ জেলার প্রায় প্রত্যেক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেই করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মানে সম্পূর্ণভাবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে, খুলনায় কার থেকে কার শরীরে এ ভাইরাস ছড়াবে তা এখন আর নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না কেউ।

বিশেষ করে ছোট বয়রা, সোনাডাঙ্গা, ময়লাপোতা, বয়রা, খালিশপুর, হরিণটানা, গোবরচাকা, সিএন্ডবি কলোনী, হাজী মহসীন রোডের বাসিন্দা।

এছাড়াও জেলা পুলিশ সদস্য, মেট্রোপুলিশ সদস্য ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা রয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার শহরে ১০ জন শনাক্ত হয়েছিলেন, তারা তারা ছোট বয়রা, নিউ মার্কেট, খান এ সবুর রোড (পুরাতন যশোর রোড), দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট কলোনী ও কেডি ঘোষ রোড এলাকার বাসিন্দা। ফলে নির্দিষ্ট কোন এলাকা বা বাড়ি লকডাউন করলেই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি মেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ সুজ্জাত আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ১৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তবে আজই (বৃহস্পতিবার) শনাক্ত হওয়াদের বেশির ভাগই খুলনা শহরের বাসিন্দা। এমনকি প্রত্যেকের বাড়ি পৃথক পৃথক এলাকায়। এখন চিন্তার বিষয় আসলে কত জনের বাড়ি লকডাউন করা যাবে। ছোট শহরের এ পর্যন্ত ৯১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একজন শনাক্ত হলে তার আশে পাশের কয়েকটি বাড়ি, কখনো ছোট বা সড়ক ধরে লকডাউন করা হয়। তাহলে পৃথক এত জায়গায় লকডাউন করা কিভাবে সম্ভব।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি রেজা সেকেন্দার বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করেও রোগীকে ফলাফল দিতে বিলম্ব করে ফেলছি। এতে তো করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করছি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে বারবার করোনা পরীক্ষার জন্য অনুরোধ করেছি। তবে তারা কোন ভাবেই এটা আমলে নিচ্ছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সংশ্লিষ্ঠ আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২৪৯,৫৯৮
সুস্থ
১৪৩,৮২৬
মৃত্যু
৩,৩০৬
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৯৭৭
সুস্থ
২,০৭৪
মৃত্যু
৩৯
স্পন্সর: একতা হোস্ট