আজ সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

খুলনার ৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে পোঁছেছে শ্রমিকদের মজুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে পৌছেছে শ্রমিকদের চার সপ্তাহের মজুরি। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবারের মধ্যে শ্রমিকরা মজুরির টাকা পেয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শ্রমিকদের মিলে না এসে নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্ট থেকে তারা মজুরি তুলতে পারবেন। ফলে করোনা পরিস্থিতিতে কোন সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন জানান, শ্রমিকদের জন্য চার সপ্তাহের মজুরি মিলে এসেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য ব্যাংক স্বল্প সময়ের জন্য খোলা থাকায় রবিবার শ্রমিকদের একাউন্টে মজুরির টাকা প্রদান করতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ। সোমবারের মধ্যে শ্রমিকদের একাউন্টে টাকা প্রদান করা হবে বলে মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে যারা দূর দূরান্তে আছেন তাদের খুলনায় আসতে হবে না। তারা নিজ নিজ এলাকার ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবে।

আটরা শিল্পাঞ্চলের আলীম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটু বলেন, আলীম জুট মিলে ১৯৭২ সাল থেকে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে, সরকারিভাবে। শ্রমিকরাতো মালিকের অধীনে কাজ করেনি। তাহলে হঠাৎ করে অন্যান্য মিলের শ্রমিকদের মজুরি দিলেও আমাদের দিবে না কেন ? যদি মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আমাদের বকেয়া পিএফ-গ্রাইচ্যুটির বকেয়া অর্থদিয়ে মিল বন্ধ করে দিক। এ অবস্থায় শ্রমিকরা কাজ করতে চায় না। করোনার মধ্যেও ১৬-১৭ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছে শ্রমিকরা, যা না দেখলে বোঝার নয়। তিনি অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

খুলনার স্টার জুট মিলের প্রকল্প প্রধান রইশ উদ্দিন আহমেদ জানান, শ্রমিকদের চার সপ্তাহের মজুরি পেয়েছি। ব্যাংক ১ টা পর্যন্ত খোলা থাকায় সময়ের স্বল্পতার কারণে শ্রমিকদের টাকা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। সোমবার থেকে শ্রমিকদের মজুরির টাকা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, মিলের শ্রমিকদের মোট ১৪ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। তবে সরকার শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি প্রদান করছেন। যার মধ্যে চার সপ্তাহের মজুরি ইতোমধ্যে পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে বাকী বকেয়া মজুরি পাওয়া যাবে। বকেয়া মজুরি পাওয়া মাত্র শ্রমিকদের প্রদান করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শ্রমিক নেতারা জানায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা একমাস বন্ধ থাকার পর খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আংশিকভাবে চালু হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল বিএডিসি ও খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তা তৈরির জন্য সীমিত পরিসরে কার্পেটিং জুট মিল ব্যতীত এই অঞ্চলের বাকী ৮টি পাটকল চালু করা হয়।

এসব পাটকলের স্থানীয় বা আবাসিক শ্রমিকদের নিয়ে মিলগুলো উৎপাদন শুরু করেছে। ফলে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, দিঘলিয়ার স্টার, আটরা শিল্পাঞ্চলের আলীম ও ইস্টার্ণ এবং যশোরের জেজেআই জুট মিল মিলগুলো আংশিক চালু রয়েছে। পাটকলগুলোর স্থায়ী এবং বদলি মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার শ্রমিক থাকলেও বর্তামানে সাড়ে তিন হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছেন। পাটকলগুলোর শ্রমিকদের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ সপ্তাহ মজুরি বকেয়া পড়ে। এতে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফলে ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিলো। কিন্তু ওইদিন বিকালে বিজেএমসির চেয়ারম্যানের বকেয়া মজুরি প্রদানের আশ্বাসে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত করে।

বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ বণিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, খুলনা জোনের ৮টি পাটকলের শ্রমিকদের চার সপ্তাহের মজুরি প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকা এসেছে। যা শ্রমিকদের সোমবার থেকে প্রদান করা হবে। তবে আলীম জুট মিলের মালিকানা জটিলতার কারণে শ্রমিকদের মজুরি আসেনি। তিনি বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী সাধারণ ছুটির আগের দিন এবং অফিস খোলার পরের দিন যে সকল স্থায়ী শ্রমিকদের হাজিরা তারাই সাধারণ ছুটিকালীন মজুরি পেয়ে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সংশ্লিষ্ঠ আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২৫৭,৫৪৭
সুস্থ
১৪৮,৩৭২
মৃত্যু
৩,৩৯৯
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৪৮৭
সুস্থ
১,৭৬৬
মৃত্যু
৩৪
স্পন্সর: একতা হোস্ট