রূপসা রেল সেতু নির্মাণে নদীর দুই পাড়ে চলছে কর্মযজ্ঞ

প্রকাশিত: ১৩-০১-২০১৯, সময়: ১২:২২ |

 

মোহাম্মদ মিলন

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। সমগ্র প্রকল্পের ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে রেল সেতু নির্মাণে কর্মযজ্ঞ চলছে রূপসা নদীর দুই পাড়ে।

 

প্রকল্পের খুলনা অংশে রূপসা নদীর পাড়ে দু’টি স্প্যান বসানোর কারণে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর অবকাঠামো। ইতোমধ্যে রূপসা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ২৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

 

এছাড়া জুনের মধ্যে ৯ কিলোমিটার রেল লাইন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দর থেকে সহজে পণ্য পরিবহন করা যাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এর ফলে আরও গতিশীল হবে মোংলা বন্দর।

 

নির্মাণ কাজ শেষে ২০২০ সালের মধ্যে খুলনা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। এমনটাই আশাবাদী প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

খুলনা-মোংলা বন্দর রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, সমগ্র প্রকল্পের ৪৫ দশমকি ৬ শতাংশ ভৌত অবকাঠামো কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে রূপসা রেল সেতুর ২৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের আগস্ট ও অক্টোবর মাসে দু’দফায় দু’টি স্প্যান বসানো হয়েছে। সেতুর খুলনা অংশে নদীতে পাইলের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৮৩৬টি পাইলের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৬৭৫টির।

 

 

রূপসা নদীর অভ্যন্তরে ৭২টি পাইলের মধ্যে ৮টির কাজ শেষ হয়েছে। ১৪৩টি স্প্যানের মধ্যে দু’টি বসানো হয়েছে। ভারত থেকে আরো ১৪টি স্প্যান প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। পিলার ১৪৪টি মধ্যে ৬টি হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, রেল লাইন বসানোর কাজে অগ্রগতি ২৬ শতাংশ। ফুলতলা থেকে বিল ডাকাতিয়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং মাস্টারিং ইয়ার্ডসহ মোংলায় ৪ কিলোমিটার ও মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্থানে ১ কিলোমিটারসহ মোট ১০ কিলোমিটার বেড রেডি আছে। ভারত থেকে পাথর ও কনক্রিট স্লীপার আসলেই বসানোর কাজ শুরু করা হবে। আগামী জুনের মধ্যে ৯ কিলোমিটার রেল লাইন বসানোর পরিকল্পনা।

 

 

২০১৬ সালের জুনে রেল পার্টির ৭৫ শতাংশ ফুলতলায় এবং ২৫ শতাংশ মোংলায় এনে রাখা হয়। মোট ১০ হাজার ৮৫১ টন রেল পাটি।

 

এর আগে খুলনা আধুনিক রেল স্টেশন থেকে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনে এসে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক মোঃ মজিবর রহমান বলেছিলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজটা অনেকটা উঠে এসেছে। কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। আশা করছি আগামী ২০২০ সালের মধ্যেই রূপসা রেলসেতু ও রেল লাইনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

 

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা-মংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ ৩টি অংশে বিভক্ত। যার একটি রেল সেতু, অপরটি রেল লাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং। প্রকল্পের অধীনে লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। আর রূপসা নদীর উপরে হযরত খানজাহান আলী সেতুর দেড় কিলোমিটার দূরে যুক্ত হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেল সেতু। এছাড়া ২১টি ছোটখাট ব্রীজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হবে।

 

ফুলতলা থেকে মংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হবে। স্টেশনগুলোর মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মংলা। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং ব্রীজের জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকী টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হবে।

 

 

এ প্রকল্পের রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভারতের ইরকন সাথে চুক্তি হয়েছে। আর ব্রীজ তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন এন্ড টাব্র নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বর প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান।

তথ্য টি শেয়ার করুন
  • 176
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    176
    Shares

Leave a comment

উপরে