মধ্যপ্রাচ্যে পাটপণ্য রফতানিতে ধস

প্রকাশিত: ১৯-০১-২০১৯, সময়: ১৬:২১ |

খুলনা মেইল ডেস্ক

কয়েক বছর বিশ্ববাজারে রমরমা ব্যবসার পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশের পাট এবং পাটজাত পণ্য রফতানিতে মন্দা শুরু হয়েছে। বিশেষত চলতি বছর এই রফতানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে আর মধ্যপ্রাচ্যে রীতিমতো ধস নেমেছে।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১১৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পাটপণ্য রফতানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে তা গত বছরের একই সময়ের অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

এ অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতেও পাটজাত পণ্য উৎপাদন কমে এসেছে। কারণ টাকার অভাবে পাট কিনতে পারছে না বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)।

 

গত ১৫ জানুয়ারির হিসাবে, ২৩টি মিলে গড়ে আর মাত্র ১৩ দিনের পণ্য উৎপাদনের পাট মজুদ আছে। একই সময়ে বিজেএমসির কাছে ক্ষুদ্র পাটচাষিদের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪২৫ কোটি ৩৭ লাখ ৫৬৩ টাকা।

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাঁচা পাটের পাশাপাশি জুট ইয়ার্ন, টুওয়াইন, চট ও বস্তা রফতানি হয়। পাশাপাশি যায় হাতে তৈরি বিভিন্ন পাটজাত পণ্য ও কার্পেট।

 

বিশ্বে উৎপাদিত কাঁচা পাটের ৫৫ শতাংশ উৎপাদন করছে ভারত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদান ৪০ শতাংশ। তবে পাট খাতের বৈশ্বিক রফতানি আয়ের ৭২ শতাংশই বর্তমানে বাংলাদেশের দখলে। মধ্যপ্রাচ্যের মন্দা অর্থনীতি বাংলাদেশকে পাট রফতানির আয়ে পিছিয়ে দেবে। এর রফতানি আয়ে ভারতের অংশীদারিত্ব বর্তমানে ১৯ শতাংশ।

এ ছাড়া চীন, নেপাল ও পাকিস্তানের প্রত্যেকের অবদান রয়েছে প্রায় এক শতাংশ করে।

এদিকে পাওনা পরিশোধ না হলে বাকিতে পাট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট চাষি সমিতি।

 

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, বিজেএমসি পাট কিনতে পারছে না। বিজেএমসির ২৫টি মিলের মধ্যে চারটি বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যগুলোতেও গড়ে মাত্র দুই সপ্তাহের পাট মজুদ আছে। চাষিদের বকেয়া ৪২৫ কোটি টাকা দ্রুত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

নেত্রকোনার পূর্বধলার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, এপ্রিল মাসে পাটের বীজ রোপণ শুরু হবে। কিন্তু এখনও গত বছরের পাটের দাম পাননি তারা। দ্রুত বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা পেলে পাট চাষ করব।

 

বিজেএমসি সূত্র জানাচ্ছে, এ বছর ১৯ লাখ ৫৩ হাজার কুইন্টাল পাট কেনার টার্গেট ছিল তাদের। তবে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত চাহিদার মাত্র ১৭ শতাংশ পাট কিনতে পেরেছে সংস্থাটি।

 

সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষকের হাতে পাট থাকে। মৌসুমের শুরুতে এ বছর পাটের মণপ্রতি দাম ছিল ১৫০০-১৭০০ টাকা। বিজেএমসির হাতে পাট না থাকায় এখন হঠাৎ করেই এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। গতকাল পাট বিক্রি হয়েছে দুই হাজার থেকে ২২৫০ টাকা মণে। মৌসুমের শেষে পাটকলগুলোতে দ্বিগুণ দামে পাট বিক্রি করেছে ফড়িয়ারা। অথচ এক মাস আগে পাটের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বিজেএমসি তখন কৃষকদের কাছ থেকে পাট কেনেনি। তারা পাট না কেনায় কৃষক সস্তায় পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন ফড়িয়াদের কাছে। এখন মজুদ করা সেই পাট চড়া দামে সরকারি মিলে সরবরাহ করছে ফড়িয়ারা। পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিজেএমসিকে গচ্চা দিতে হবে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা।

 

বিজেএমসি সচিব এ কে এম তারেক বলেন, টাকার অভাবে তারা পাট কিনতে পারছেন না। মিলগুলোর কোনোটাতে এক সপ্তাহ আবার কোনোটাতে দুই সপ্তাহের পাট মজুদ আছে। পাটের অভাবে মিলগুলো যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য তারা পাট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পাটের জোগান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটে রফতানিতে এবার ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাট কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ চাইলেও এখনও টাকা পাওয়া যায়নি।

খুব শিগিরই সরকার পাট কেনার টাকা ছাড় করবে- এমন প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, পাটকলগুলোর যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন হলে ও সঠিক সময়ে টাকা ছাড় করলে এগুলোকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি কৃষকদেরও পাটচাষে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার সারাদেশে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমি। গত বছর সারাদেশে পাটের আবাদ হয় ছয় লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে।

 

বিশ্বের মোট পাটের ৯০ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশ ও ভারতে। দুই দেশই নিজের ব্যবহারের পাশাপাশি চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাট, পাট সুতা ও পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে। সূত্র: সমকাল।

তথ্য টি শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

Leave a comment

উপরে