খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম মার্চে শুরুর পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ২৩-০১-২০১৯, সময়: ০৯:৫০ |

মোহাম্মদ মিলন

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আগামী মার্চ মাসে শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

 

প্রস্তাবে ৭টি অনুষদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত তিনটি অনুষদে প্রাথমিক পর্যায়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষে অন্য চারটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের নিয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি এই প্রস্তাবনা দিয়েছে।

 

এদিকে ডাঃ মাজহারুল আনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ফেব্র“য়ারি মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।

 

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিয়াজোঁ অফিস ঢাকা মহাখালীতে এবং খুলনার সোনাডাঙ্গা প্রথম ফেজে ভাড়া নেয়া অস্থায়ী অফিসে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সাথে দেশের চারটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের সমন্বয়ে ৯ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আক্তার হোসেন চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ খন্দকার মাজহারুল আনোয়ারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। ৯ সদস্য বিশিষ্ট এই টেকনিক্যাল কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষে নানা সুপারিশ দেন। এর মধ্যে খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৭টি অনুষদ এবং সংশি¬ষ্ট অনুষদের অধিনে ৫১টি বিভাগ খোলাসহ ডিগ্রির নামকরণ বিষয়ে সুপারিশ গৃহীত হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গত ১২ ডিসেম্বর ৭টি অনুষদের অনুমোদন চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।

 

অনুষদগুলো হচ্ছে ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদ, এগ্রিকালচার অনুষদ, ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদ, এগ্রিকালচারাল ইকোনমিক্স এ্যান্ড এগ্রিবিজনেস স্ট্যাডিজ অনুষদ, এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ, ফুড সায়েন্সেস এ্যান্ড সেফ্টি অনুষদ এবং এনভায়রনমেন্ট, ডিজাস্টার রিসক্ এ্যান্ড এগ্রোক্লাইমেটিক স্ট্রাডিজ অনুষদ। ইউজিসির অনুমোদন পেলে সরকারি স্থাপনা বা ভাড়া বাড়িতে আগামী মার্চে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। সেই লক্ষে জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারি শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইউজিসির অনুমোদন না পাওয়ায় এখনও ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী ৩০ জানুয়ারি ইউজিসির কর্মকর্তারা খুলনায় পরিদর্শনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিদর্শনের পর অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

 

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ড. শহীদুর রহমান খাঁন সময়ের খবরকে জানান, প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে ডাঃ খন্দকার মাজহারুল আনোয়ারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষে অনুষদের তালিকা প্রস্তুত করে ইউজিসিতে প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে।

 

 

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ডাঃ খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার জানান, গত ১২ নভেম্বর যোগদানের পর উপাচার্য ড. শহীদুর রহমান খাঁনের নির্দেশনায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ চলছে। বিশ^বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৭টি অনুষদের মধ্যে অন্তত ৩টির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। আগামী মার্চে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইউজিসি অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে সরকারি স্থাপনা বা ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, উপাচার্যের নির্দেশনায় পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।

উল্লে¬খ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ময়মনসিংহ ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খাঁন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

সংশ্লি¬¬ষ্ট সূত্রমতে, ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনার খালিশপুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্র“তি দেন। এরপর নগরীর দৌলতপুরের কৃৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অব্যবহৃত ৫০ একর জমি এবং পাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন ১২ একর জমি নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৫ সালের ৫ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৫’ পাস হয়।

তথ্য টি শেয়ার করুন
  • 81
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    81
    Shares

Leave a comment

উপরে