পাঁচ বছরেও চালু হয়নি খুলনা হার্ডবোর্ড মিল

প্রকাশিত: ২৬-০১-২০১৯, সময়: ১৪:৫৬ |

মোহাম্মদ মিলন

খুলনা হার্ডবোর্ড মিল। ফাইল ছবি।

মিল অভ্যন্তরে সার গোডাউনের পরিকল্পনা

দীর্ঘ ৫ বছরেও চালু হয়নি খুলনা হার্ডবোর্ড মিল। শুধুমাত্র আশ্বাস আর প্রতিশ্র“তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে চালুর প্রক্রিয়া। মূলধন সংকটে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। এক সময়ের কর্মচঞ্চল ও লাভজনক এ মিলটিতে বর্তমানে শুধুই নীরব-নিস্তব্ধ।

 

প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের ভাগ্য বদলের আশাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। পাশাপাশি মিলটি বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। একই সাথে মিলকে কেন্দ্র করে এক সময়ে গড়ে ওঠা হার্ডবোর্ড ডিলাররাও ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। অনেকেই পেশা বদলাচ্ছেন। তবে হাল ছাড়েননি শ্রমিকরা। তারা এখনও মিল চালুর বিষয়ে আশাবাদী।

 

এদিকে মিলের অভ্যন্তরে সার গোডাউন করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এ বিষয়ে খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের প্রকল্প প্রধান প্রদীপ কুমার মজুমদার জানান, মিলটি চালুর বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে মিলের অভ্যন্তরে সার গোডাউন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মিল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল চলতি মূলধন সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরে কয়েক দফা চেষ্টার পর ২০১২ সালের নভেম্বরে সরকার বিসিআইসির মাধ্যমে মিলটি চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রায় আট মাস সংস্কার করার পর ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট মিলটি ফের উৎপাদনে যায়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর অর্থ সংকটে মিলটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মিল চালুর বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে অবিক্রিত হার্ডবোর্ড ও মিলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অযতœ ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। মিলের বোর্ড তৈরির মেশিন, গোডাউন, ফিনিশিং কারখানা, চিপার মেশিন, বয়লারসহ মিলের প্রতিটি যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ বন্ধের সময়ে ২৪২ জন সেট আপের বিপরীতে ২০৪ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কর্মরত ছিল। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পেশা। আবার অনেকেই এখন বেকার। তারপরেও অনেকে আশায় রয়েছে মিল চালু হবে। মিলটি বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি ডিলাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। এক সময়ের লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি চালুর ব্যাপারে সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা তাদের।

খুলনা হার্ডবোর্ড মিল বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মোল্লা ফরিদ আহমেদ বলেন, হার্ডবোর্ড মিলে প্রায় আড়াইশ’ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। মিলের অনেক শ্রমিক ইজিবাইক চালক আর অনেকেই দিনমজুরসহ ভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। এছাড়া অনেকেই বেকার অবস্থায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, এক সময়ে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ও মানুষের পদচারণায় কর্মচাঞ্চল্য ছিল গোটা মিল এলাকা। আর এখন অযতœ আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় এমপি মহোদয় খুলনা নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল চালুর প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন। মিল চালু হবে, সেই আশায় রয়েছি আমরা। তিনি বলেন, শ্রমিক বান্ধব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মিলটি চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে নগরীর খালিশপুরে ৯ দশমিক ৯৬ একর জমির ওপর কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন খুলনা হার্ডবোর্ড মিলটি নির্মাণ করে। ১৯৬৬ সালে মিলটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।

তথ্য টি শেয়ার করুন
  • 119
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    119
    Shares

Leave a comment

উপরে