খুলনা বিভাগের ২৪টিসহ সারাদেশের ১০৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণ আজ

প্রকাশিত: ৩১-০৩-২০১৯, সময়: ০৭:০৯ |

মোহাম্মদ মিলন

 

পঞ্চম উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে খুলনা জেলার ৮টিসহ সারাদেশের ১০৭ উপজেলায় আজ রবিবার ভোট গ্রহণ হবে। এদিন সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে। নির্বাচনের আগের দিন গতকাল শনিবার কড়া নিরাপত্তায় উপজেলার নির্বাচনী কার্যালয়গুলো হতে কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হয় ব্যালট পেপারসহ ভোটের সরঞ্জাম। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ র‌্যাব, আনসার, এপিবিএন বিজিবির দেড় লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ৫০টি উপজেলা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হযেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ ধাপে ১২২টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আগের তিন ধাপে স্থগিত হওয়া ৬টিসহ মোট ১২৮টি উপজেলায় চতুর্থ ধাপে নির্বাচনের কথা ছিল। এর মধ্যে খুলনার ডুমুরিয়া, ফেনীর ছাগলনাইয়া, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার বরুডা উপজেলার নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এবং নোয়াখালীর কবির হাটের নির্বাচন সহিংসতার আশঙ্কায় স্থগিত করেছে ইসি। এছাড়া সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোট হচ্ছে না ১৫ উপজেলায়। নির্বাচনে ৮৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২২ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।

 

আজ রবিবার চতুর্থ ধাপে নির্বাচন হচ্ছে ১০৭ উপজেলায়। ছয় উপজেলায় ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা ছয়টি উপজেলা হলো, বাগেরহাট সদর, ফেনী সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, ময়মনসিংহ সদর ও পটুয়াখালী সদর।

 

 

পাঁচ বিভাগের ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় ১ হাজার ১৪২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮৪টি উপজেলায় ২৯২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০০ উপজেলায় ৪৮৭ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯৬ উপজেলায় ৩৬৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ কোটির বেশি এবং কেন্দ্রের সংখ্যা সাড়ে আট হাজার।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৫০টি উপজেলায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সহিংসা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়া তিন ওসি, একজন পুলিশ সুপার ও একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ ইউনুচ আলী জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে বিভাগের ২৬টি উপজেলায় নির্বাচনের কথা ছিলো। তবে মামলা জনিত কারণে ডুমুরিয়ায় ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে। আর শার্শা উপজেলার সকল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ জন্য ২৪টি উপজেলায় ৩১ মার্চ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

এগুলো হচ্ছে খুলনা জেলার দিঘলিয়া, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা ও বটিয়াঘাটা। যশোর জেলার সদর, বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর। বাগেরহাট জেলার সদর, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, চিতলমারি, কচুয়া, রামপাল, ফকিরহাট, মোল্লারহাট ও শরণখোলা।

 

 

খুলনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার এম মাজহারুল ইসলাম জানান, আজ (শনিবার) উপজেলা পর্যায় থেকে কেন্দ্র হতে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনে কেউ যদি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও পুলিশের সূত্র জানায়, জেলার ৯ উপজেলার ৮টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নৌকা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে দ্বন্দ্বে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন ১০ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। যার কারণে আজ ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে বটিয়াঘাটা ও ফুলতলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ও দাকোপে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৫ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন। এ নির্বাচনে ৫৯ জন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের নির্বাচনে ডুমুরিয়া বাদে বাকী ৮টি উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২৯টি। যার ৬০ শতাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

খুলনার ৮ উপজেলায় ৩ হাজার পুলিশ, ৫ হাজার ১৪৮ আনসার, ২৪ প্লাটুন বিজিবি ও ২০৫ জন কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি র‌্যাব ও সাদাপোশাকের টিম নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

উল্লেখ্য, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচন পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ১০ মার্চ ৭৮ উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ ১১৬ উপজেলায়, তৃতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার চতুর্থ ধাপে ১০৭ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের ২১ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্য টি শেয়ার করুন
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    55
    Shares

Leave a comment

উপরে